যিহোয়াকীমের দিনের বাবিলের রাজা নবূখদ্নিৎসর যিহূদা দেশ আক্রমণ করলেন। যিহোয়াকীম তিন বছর পর্যন্ত তাঁর দাস ছিলেন। পরে তিনি ফিরলেন এবং নবূখদ্নিৎসরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন।
সদাপ্রভু যিহোয়াকীমের বিরুদ্ধে বাবিলোনীয়, অরামীয়, মোয়াবীয় ও অম্মোনীয় লুটেরাদের পাঠিয়ে দিলেন। তাঁর দাস ভাববাদীদের মধ্য দিয়ে যে কথা বলেছিলেন সেই অনুযায়ী যিহূদা দেশকে ধ্বংস করবার জন্য তিনি তাদের পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
বস্তুত সদাপ্রভুর আদেশ অনুসারেই যিহূদার প্রতি এই সব ঘটেছিল যাতে তিনি নিজের চোখের সামনে থেকে তাদের দূর করে দিতে পারেন। কারণ এই সব ঘটেছিল মনঃশির সমস্ত পাপের জন্য,
এবং নির্দোষ লোকদের রক্তপাতের জন্য, কারণ তিনি তাদের রক্তে যিরূশালেম পূর্ণ করেছিলেন, আর সদাপ্রভু তা ক্ষমা করতে রাজি হলেন না।
যিহোয়াকীমের অন্যান্য অবশিষ্ট সমস্ত কাজের বিবরণ যিহূদার রাজাদের ইতিহাস নামে বইটিতে কি লেখা নেই?
পরে তিনি তাঁর পূর্বপুরুষদের সঙ্গে নিদ্রাগত হলেন এবং তাঁর ছেলে যিহোয়াখীন তাঁর জায়গায় রাজা হলেন।
মিশরের রাজা আক্রমণ করবার জন্য তাঁর রাজ্য থেকে আর বের হন নি, কারণ বাবিলের রাজা মিশরের রাজার যতটা রাজ্য ছিল মিশরের ছোট নদী থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত সমস্ত রাজ্যটা দখল করে নিয়েছিলেন।
যিহোয়াখীন যখন রাজত্ব শুরু করেন তখন তাঁর বয়স আঠারো বছর ছিল এবং তিনি তিন মাস রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল নহুষ্টা; তিনি যিরূশালেমের বাসিন্দা ইলনাথনের মেয়ে ছিলেন।
যিহোয়াখীন সদাপ্রভুর চোখে যা কিছু মন্দ তাই করতেন, তিনি তাঁর বাবার যা করেছিলেন তেমনই করলেন।
সেই দিনের বাবিলের রাজা নবূখদ্নিৎসরের সৈন্যেরা যিরূশালেম আক্রমণ করলো এবং সেই শহর অবরোধ করল।
তাঁর সৈন্যেরা যখন শহর অবরোধ করছিল তখন বাবিলের রাজা নবূখদ্নিৎসর নিজে শহরে গিয়েছিলেন।
এবং যিহূদার রাজা যিহোয়াখীন, তাঁর মা, তাঁর সাহায্যকারীরা, তাঁর সেনাপতিরা ও তাঁর কর্মচারীরা সবাই বাবিলের রাজার হাতে নিজেদের তুলে দিলেন। আর বাবিলের রাজা রাজত্বের আট বছরের দিন তিনি যিহোয়াখীনকে বন্দী করে নিয়ে গেলেন।
যেমন সদাপ্রভু বলেছিলেন তেমনি করে নবূখদ্নিৎসর সদাপ্রভুর ঘর ও রাজবাড়ী থেকে সব ধনরত্ন নিয়ে গেলেন এবং ইস্রায়েলের রাজা শলোমন সদাপ্রভুর গৃহের জন্য সোনা দিয়ে যে সব জিনিস তৈরী করেছিলেন তা তিনি কেটে টুকরা টুকরা করলেন।
তিনি যিরূশালেমের সবাইকে, অর্থাৎ সমস্ত নেতাবর্গ ও সমস্ত যোদ্ধা বীর, সমস্ত শিল্পকার ও কর্মকারদের মোট দশ হাজার লোককে বন্দী করে নিয়ে গেলেন। দেশে গরিব লোক ছাড়া আর কাউকে অবশিষ্ট রাখলেন না।
নবূখদ্নিৎসর যিহোয়াখীনকে বন্দী করে বাবিলে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি যিরূশালেম থেকে রাজার মাকে, তাঁর স্ত্রীদের, তাঁর কর্মচারীদের এবং দেশের গণ্যমান্য লোকদেরও বন্দী করে তিনি বাবিলে নিয়ে গেলেন।
বাবিলের রাজা সমস্ত যুদ্ধের জন্য উপযুক্ত ও শক্তিশালী সাত হাজার যোদ্ধার পুরো সৈন্যদল এবং এক হাজার শিল্পকার এবং কামারদের বন্দী করে বাবিলে নিয়ে গিয়েছিলেন।
বাবিলের রাজা যিহোয়াখীনের বাবার ভাই মত্তনিয়কে তাঁর জায়গায় রাজা করলেন এবং তাঁর নাম বদ্ল করে সিদিকিয় রাখলেন।
সিদিকিয় একুশ বছর বয়সে ছিলেন যখন তিনি রাজত্ব করতে শুরু করেছিলেন। তিনি যিরূশালেমে এগারো বছর রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর মায়ের নাম ছিল হমূটল; তিনি ছিলেন লিব্না শহরের বাসিন্দা যিরমিয়ের মেয়ে।
সিদিকিয় সদাপ্রভুর চোখে যা মন্দ তাই করতেন, যিহোয়াকীম যা করেছিলেন তিনি তা সবই করতেন।
সদাপ্রভুর ক্রোধের কারণে এবং যতক্ষণ না তিনি তাঁর সামনে থেকে তাদের দূর করে দিলেন, যিরূশালেম ও যিহূদায় এই সব ঘটনা ঘটেছিল। তখন সিদিকিয় বাবিলের রাজার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করলেন।
Share what's on your heart and our team will pray with you.
Want to be part of this community? Leave your details and we'll be in touch.
Every gift helps keep this ministry running and reaching more people.